December 8, 2019

অপরাধ জগতের ভয়ঙ্কর দিক সাইবার ক্রাইম

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

মেয়ে সেজে ছেলেকে হ্যারাসমেন্ট করা বা ছেলে সেজে মেয়েকে হয়রানি করা এ আর নতুন কী? এসব করতে পারে কীভাবে? কেন? কারণ আইন আছে, আইনের প্রয়োগ নেই। না জানে ভিকটিম, না জানে আইন প্রয়োগকারী সংস্থা। খুব কমসংখ্যক মামলায় আদালতে যায়। আমরা যারা আইনজীবীরা আছি আমরাও এই আইন সম্পর্কে তেমন জানি না বা জানলেও প্র্যাকটিস করি না। সাইবার ক্রাইম আইনের ৫৭ ধারায় কী বলা আছে একটু সংক্ষেপে দেখে নিই-

তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি আইনের ৫৬ ধারায় বলা আছে, ‘যদি কোনো ব্যক্তি জনসাধারণের বা কোনো ব্যক্তির ক্ষতি করার উদ্দেশ্যে বা ক্ষতি হবে মর্মে জানা সত্ত্বেও এমন কোনো কাজ করেন, যার ফলে কোনো কম্পিউটার রিসোর্সের কোনো তথ্যবিনাশ, বাতিল বা পরিবর্তিত হয় বা তার মূল্য বা উপযোগিতা হ্রাস পায় বা অন্য কোনোভাবে একে ক্ষতিগ্রস্ত করে। এমন কোনো কম্পিউটার সার্ভার, কম্পিউটার নেটওয়ার্ক বা অন্য কোনো ইলেকট্রনিক সিস্টেমে অবৈধভাবে প্রবেশ করার মাধ্যমে এর ক্ষতিসাধন করেন, কিন্তু তিনি মালিক বা দখলদার নন, তা হলে তার এই কাজ হবে একটি হ্যাকিং অপরাধ। কোনো ব্যক্তি হ্যাকিং অপরাধ করলে তিনি অনূর্ধ্ব ১০ বছর কারাদ-ে দ-িত হবেন। এক কোটি টাকা অর্থদ-ে দ-িত হতে পারেন বা উভ য়দ- দেওয়া যেতে পারে।’advertisement

তথ্যপ্রযুক্তি আইনের ৫৭ ধারায় বলা আছে, ‘যদি কোনো ব্যক্তি ইচ্ছাকৃতভাবে ওয়েবসাইটে বা অন্য কোনো ইলেকট্রনিক বিন্যাসে এমন কিছু প্রকাশ বা সম্প্রচার করেন যা মিথ্যা ও অশ্লীল বা সংশ্লিষ্ট অবস্থা বিবেচনায় কেউ পড়লে বা শুনলে নীতিভ্রষ্ট বা অসৎ হতে উদ্বুদ্ধ হতে পারে বা যার দ্বারা মানহানি ঘটে, আইনশৃঙ্খলার অবনতি ঘটে বা ঘটার সম্ভাবনা সৃষ্টি হয়, রাষ্ট্র বা ব্যক্তির ভাবমূর্তি ক্ষুণœ হয় বা ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করে বা করতে পারে বা এ ধরনের তথ্যাদির মাধ্যমে কোনো ব্যক্তি বা সংগঠনের বিরুদ্ধে উসকানি প্রদান করা হয়, তা হলে তার এই কাজ অপরাধ বলে গণ্য হবে।’

এই আইনটি দেশে আসলে সবাই জানেন না। জানলেও এই আইনের আওতায় অপরাধ সংঘটিত হয়েই চলেছে এবং এই অপরাধ বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই নারীর ক্ষেত্রে ঘটছে। বিষয়টি কেবল নারীর ক্ষেত্রেই হয় বা হচ্ছে সেটা নয় আরও অনেক ক্ষেত্রেও ঘটছে।advertisement

যেমন-

বিভিন্ন ধরনের সাইবার ক্রাইম

স্প্যামিং এবং জাঙ্ক মেইল : এটি মানুষকে ঠকানোর একটি দুর্দান্ত উপায়। এটি মূলত সম্পূর্ণভাবে সোশ্যাল মিডিয়া ও ই-মেইলের ওপর ভিত্তি করে কাজ করে। ফেক আইডি/ই-মেইল ঠিকানা ব্যবহার করে তারা আপনার ঠিকানা, ক্রেডিট বা ডেবিট কার্ড নম্বর এবং এমনকি ফোন নম্বর সংগ্রহ করে।

পর্নোগ্রাফি : পর্নোসাইটগুলো সবচেয়ে বিপজ্জনক জিনিস। বেশিরভাগ সাইট ক্ষতিকর কম্পিউটার ভাইরাস সংবলিত। অনেক সাইট পপআপ এড সো করে এবং কখনো কখনো ই-মেইল অ্যাড্রেস চেয়ে থাকে। এই সাইটগুলো আপনার কম্পিউটারে ভাইরাস আক্রমণের প্রধান কারণ হতে পারে।

হ্যাকিং : হ্যাকার আপনার কম্পিউটারে ভাইরাস বিস্তার করে আপনার সব গুরুত্বপূর্ণ তথ্য চুরি করতে পারে। তা ছাড়া হ্যাকার আপনার সোশ্যাল অ্যাকাউন্ট ও অন্যান্য ওয়েবসাইট হ্যাক করে ক্ষতি করতে পারে।

সাইবার ক্রাইমে নারীর নির্যাতন : আমাদের দেশে অনেক মেয়েই সাইবার ক্রাইমের শিকার। সাইবার ক্রাইমের অজ্ঞতার কারণে আমাদের দেশের অনেক নারীর অশ্লীল ছবি ইন্টারনেটে ছড়িয়ে পড়ছে। সামাজিক মিডিয়াতে ধর্ষণের ভিডিও এবং যৌন দৃশ্য পোস্ট করার মতো বেশকিছু অপরাধও সংঘটিত হয়েছে। অন্যের ছবি দিয়ে ফেক অ্যাকাউন্ট খোলা, নগ্নছবি প্রকাশের হুমকি ইত্যাদি অপরাধের মাত্রাও দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে।

অপরাধের শিকার হলে কিংবা ফেঁসে গেলে

কোনো কারণে আপনি যদি সাইবার অপরাধের শিকার হন, তা হলে আপনার নজরে আসামাত্রই আপনি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে বিষয়টি অবগত করে রাখতে পারেন। প্রয়োজনে সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করে রাখতে পারেন। বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনেও (বিটিআরসি) লিখিতভাবে জানিয়ে রাখতে পারেন। এতে করে কেউ আপনাকে মিথ্যাভাবে ফাঁসানোর চেষ্টা করলে আপনি কিছুটা সুরক্ষা পেতে পারেন। আপনি যদি সাইবার অপরাধের গুরুতর শিকার হন এবং প্রতিকার পেতে চান, তা হলে তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি আইন, ২০০৬ (সংশোধিত ২০১৩)-এর আশ্রয় নিতে পারেন। এ আইনের আওতায় থানায় এজাহার দায়ের করতে পারেন।

আইনে যে শাস্তি

তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি আইন, ২০০৬ (সংশোধিত ২০১৩)-এর ৫৪ ধারা অনুযায়ী, কম্পিউটার বা কম্পিউটার সিস্টেম ইত্যাদির ক্ষতি, অনিষ্টসাধন যেমন ই-মেইল পাঠানো, ভাইরাস ছড়ানো, সিস্টেমে অনধিকার প্রবেশ বা সিস্টেমের ক্ষতি করা ইত্যাদি অপরাধ। এর শাস্তি সর্বোচ্চ ১৪ বছর কারাদ- এবং সর্বনিম্ন ৭ বছর কারাদ- বা ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত জরিমানা। ৫৬ ধারায় বলা হয়েছে, কেউ যদি ক্ষতি করার উদ্দেশ্যে এমন কোনো কাজ করেন, যার ফলে কোনো কম্পিউটার রিসোর্সের কোনো তথ্য বিনাশ, বাতিল বা পরিবর্তিত হয় বা এর উপযোগিতা হ্রাস পায় অথবা কোনো কম্পিউটার, সার্ভার, নেটওয়ার্ক বা কোনো ইলেকট্রনিক সিস্টেমে অবৈধভাবে প্রবেশ করেন, তবে এটি হবে হ্যাকিং অপরাধ, যার শাস্তি সর্বোচ্চ ১৪ বছর কারাদ- এবং সর্বনিম্ন ৭ বছর কারাদ- বা ১ কোটি টাকা পর্যন্ত জরিমানা


  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *