December 8, 2019

আন্দোলনের নামে অন্যপথে গেলে বিশ্ববিদ্যালয়ে টাকা বন্ধ: প্রধানমন্ত্রী

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

আন্দোলনের নামে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টিকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেছেন, উস্কানি দিয়ে ছাত্রদের বিপথে নেওয়া, তাদের ভবিষ্যৎ নষ্ট করা কখনও কেউ মেনে নিতে পারে না। সবাইকে মনে রাখতে হবে, উচ্চ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সরকারি অর্থেই পরিচালিত হয়। আন্দোলনের নামে ছাত্ররা বিপথে গেলে বিশ্ববিদ্যালয়ে টাকা বন্ধ করে দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি বলেন, স্বাধীনতা ভালো, তবে তা বালকের জন্য নহে- এ কথা মাথায় রাখতে হবে। গতকাল শনিবার রাজধানীর ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে জাতীয় শ্রমিক লীগের ত্রয়োদশ জাতীয় সম্মেলন উদ্বোধনকালে এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী। 

ঘূর্ণিঝড় ‘বুলবুল’ মোকাবিলায় সরকারের প্রস্তুতির কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, মানুষকে রক্ষার সব ধরনের  প্রস্তুতি সরকারের আছে। এমনকি ঝড়-পরবর্তী ত্রাণ ও পুনর্বাসন কার্যক্রম পরিচালনার ব্যবস্থাও নেওয়া হয়েছে।

শনিবার সকালে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের সম্মেলনস্থলে পৌঁছে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জাতীয় সংগীতের সঙ্গে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন। এ সময় শ্রমিক লীগের পতাকা উত্তোলন করেন সংগঠনের সভাপতি শুক্কুর মাহমুদ ও সাধারণ সম্পাদক সিরাজুল ইসলাম। এরপর শান্তির প্রতীক পায়রা ও বেলুন উড়িয়ে সম্মেলনের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী। পরে সম্মেলনমঞ্চে প্রধান অতিথির বক্তব্যে শ্রমিকদের উন্নয়নে তার সরকারের নেওয়া বিভিন্ন পদক্ষেপ ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, কেবল কৃষি নয়, শিল্পের উন্নয়নেও আওয়ামী লীগ সরকার লক্ষ্য রাখে। এ দেশের মেহনতি শ্রমজীবী মানুষের কল্যাণই আওয়ামী লীগের লক্ষ্য। শ্রমিকশ্রেণির কল্যাণে তার সরকার আন্তরিক। যে কোনো শ্রেণিই হোক না কেন, সরকার মানুষকে মানুষ হিসেবেই দেখে। সে লক্ষ্য নিয়েই কাজ করে চলেছেন তারা। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ সরকার শ্রমিকদের জীবনমান ও ভাগ্যের উন্নয়ন এবং তাদের উন্নত ভবিষ্যৎ নিশ্চিতে কাজ করছে। আওয়ামী লীগ যখনই ক্ষমতায় এসেছে, শ্রমিকদের ভাগ্যোন্নয়ন হয়েছে। এ সময় কৃষিজমি ধ্বংস করে যত্রতত্র শিল্পকারখানা গড়ে না তোলার বিষয়েও সচেতন থাকার আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী। 

অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ তুলে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অধ্যাপক ফারজানা ইসলামের পদত্যাগের দাবিতে কিছু শিক্ষক-শিক্ষার্থীর আন্দোলনে সৃষ্ট পরিস্থিতির দিকে ইঙ্গিত করে প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, অনেকে প্রশ্ন তুলেছেন- সরকার নাকি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় বোঝে না! যারা কথা বলছেন, বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করেন, তারাই কেবল বোঝেন! ধর্মঘট করে দিনের পর দিন কর্মঘণ্টা নষ্ট করবেন, ছেলেমেয়েদের পড়াশোনা ব্যাহত করবেন- আর তারাই সব বুঝবে, বুঝব না আমরা! এটা তো হয় না। 

পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে রাষ্ট্রের অর্থায়নের বিষয়টি তুলে ধরে তিনি বলেন, পৃথিবীর কোনো দেশে এত অল্প খরচে শিক্ষা দেওয়া হয় না। সেখানে স্বায়ত্তশাসন আছে, এ কথা সত্য। কিন্তু টাকা দিচ্ছে কারা, সরকারই তো দিচ্ছে। অর্থ সরকার দেবে, সব রকম উন্নয়ন প্রকল্পও সরকার করবে, সেটা নিতে খুব ভালো লাগবে; কিন্তু সরকার সেখানে কোনো ব্যবস্থা নিতে পারবে না- এটা কখনও হতে পারে না।

শেখ হাসিনা বলেন, কথায় বলে ‘স্বাধীনতা ভালো, তবে তাহা বালকের জন্য নহে’। এটা মাথায় রাখতে হবে। জ্ঞানী হয়েছেন ভালো কথা, কিন্তু এ ধরনের বালকসুলভ কথাবার্তা না বলাই ভালো। বরং ছেলেমেয়েদের লেখাপড়া ও শিক্ষার সময় যেন নষ্ট না হয়, উপযুক্ত সময় তারা ভালো রেজাল্ট করবে এবং জীবনকে সুন্দরভাবে গড়ে তুলবে- সেটাই আমরা চাই। 

আন্দোলনকারীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, সেটা (আন্দোলন) যদি করতেই হয়, তাহলে নিজেদের বেতন নিজেদের দিতে হবে। সরকার সব টাকা বন্ধ করে দেবে। কারণ, স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের খরচ পাবলিকই দেবে। সরকার কেন খরচ করবে? সেটাও তাদের চিন্তা করতে হবে, কোনটা করবেন? 

এ প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ইদানীং দেখছি, কথা নাই, বার্তা নাই ব্যবস্থা নেওয়ার পরও কয়েকজন মিলে অহেতুক অভিযোগ তুলছেন। সে অভিযোগ সত্য, না মিথ্যা- সেটাও দেখা হয় না। দেশের আইনেও আছে, কেউ কারও বিরুদ্ধে অভিযোগ আনলে এবং সেটা মিথ্যা প্রমাণ হলে অভিযোগকারীর বিচার হয়, সাজা হয়। তিনি বলেন, কাজেই যারা কথা বলছেন, তারা আইনগুলো ভালোভাবে দেখে নেবেন। কারণ, আমরাও শিক্ষার্থী ছিলাম, পড়াশোনা করে আসছি। এটা ভুলে গেলে চলবে না। এটা বললাম, কারণ কিছু কিছু পাকা পাকা কথা শোনা যাচ্ছে। সে জন্যই এ কথা বলতে বাধ্য হই।

কৃষক-শ্রমিকদের কল্যাণে বঙ্গবন্ধু সরকারের অবদান তুলে ধরে বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা বলেন, স্বাধীনতার পর জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান দেশের অর্থনীতির দ্রুত বিকাশের লক্ষ্যে সব শ্রেণির মানুষকে নিয়ে একটি জাতীয় ঐক্যের ডাক দিয়েছিলেন। এ ঐক্যের নাম বাংলাদেশ কৃষক শ্রমিক লীগ, সংক্ষেপে বাকশাল। বাকশাল ছিল ঐক্যের প্ল্যাটফর্ম। তার এ উদ্যোগের মধ্য দিয়ে তিনি চেয়েছিলেন, দেশের মানুষের অর্থনৈতিক মুক্তি অর্জন করতে। জাতির দুর্ভাগ্য, সেটা বাস্তবায়ন হলে দেশ আজ এত পিছিয়ে যেত না। 

দেশ ও জাতির কল্যাণে তার সরকারের টানা ১০ বছরের উন্নয়ন ও অগ্রগতির বিবরণ তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের মানুষের প্রতি কৃতজ্ঞ তিনি। জনগণই আওয়ামী লীগকে ২০০৮ সাল থেকে টানা তিনবার তাদের সেবা করার সুযোগ দিয়েছে। সরকারের ধারাবাহিকতা ছিল বলেই দেশবাসী আজ উন্নয়নের সুফল পাচ্ছে। দেশ এগিয়ে যাচ্ছে উন্নয়নের সাফল্য আর মুক্তিযুদ্ধের চেতনায়। 

শ্রমিক লীগের সভাপতি শুক্কুর মাহমুদের সভাপতিত্বে সম্মেলনের উদ্বোধনী অধিবেশনে আরও বক্তব্য দেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, শ্রমবিষয়ক সম্পাদক হাবিবুর রহমান সিরাজ, শ্রম ও কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী মন্নুজান সুফিয়ান, আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার (আইএলও) কান্ট্রি ডিরেক্টর তুয়োমো জোহান্স পটিয়াইনেন, আন্তর্জাতিক ট্রেড ইউনিয়ন কনফেডারেশন এশিয়া প্যাসিফিকের (আইটিইউসি-এপি) সাধারণ সম্পাদক শোভা ইওশিদা এবং দক্ষিণ এশীয় আঞ্চলিক ট্রেড ইউনিয়ন কাউন্সিলের সাধারণ সম্পাদক লক্ষ্মণ বাহাদুর বাসনেত। স্বাগত বক্তব্য ও সাংগঠনিক রিপোর্ট উত্থাপন করেন শ্রমিক লীগের সাধারণ সম্পাদক সিরাজুল ইসলাম। শোক প্রস্তাব উত্থাপন করেন সংগঠনের কার্যকরী সভাপতি ফজলুল হক মন্টু।


  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *